সহজ ও আধুনিক পদ্ধতিতে আলু চাষ
আধুনিক পদ্ধতিতে আলু চাষ করলে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। খাবার হিসেবে আলু একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। ধান ও গমের পরের স্থানটি হলো আলু। সাধারণত আলু চাষ করে অনেক চাষী অধিক মুনাফা অর্জন করছে। সঠিক ভালে আলু চাষ করলে অধিক ফলন পাওয়া যাবে। আমরা এই আর্টিকেলে আধুনিক পদ্ধতিতে আলু চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।
আধুনিক পদ্ধতিতে আলু চাষে মাটি নির্বাচন
বেলে দোআঁশ মাটি আলু চাষের জন্য উত্তম। যে কোনো মাটিতে সাধারণত আলু চাষ করা যায়। আলু চাষের জন্য উচা জমি নির্ধারণ করতে হবে। যে জমিতে পানি জমে না এমন জমি হলেই হবে। আধুনিক পদ্ধতিতে আলু চাষে জমি প্রস্তুত করার জন্য নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করতে হবে-
- প্রথমে জমিতে ভালো করে চাষ দিয়ে মটি ঝুরঝুরা করে নিতে হবে।
- এবার জমিতে মই টেনে সমান করে নিতে হবে।
- এমন ভাবে চাষ দিতে হবে, যেনো মাটিতে বড় ঢেলা না থাকে।
বিভিন্ন ধরণের আলুর জাত
বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত ৮৩ টি আলুর জাত পাওয়া যাই। এক একটি আলুর জাতের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট আছে। নিম্নে কয়েকটি ভালো জাতের আলু ও ফলনের তালিকা দেওয়া হলো-
|
আলুর জাত |
ফলন (হেক্টর) |
|
ডায়মন্ট, কার্ডিনাল |
২৫-৩৫ টন |
|
বারি আলু-৭৪, ৭৫ |
২০-৪০ টন |
|
বারি আলু-৪৬ |
২০-৩৫ টন |
|
এসটেরিক্স, লেডি রোসেটা, কারেজ, মেরিডিয়ান |
২০-৩৫ টন |
|
মড়ক রোগ প্রতিরোধী বারি আলু-৪৬, ৫৩, ৭৭, এ্যালোটি, ক্যারোলাস |
৩০-৪০ টন |
|
আইলসা, প্রোভেন্টো, বারি আলু-৬২, ৭৬ |
৩০-৪০ টন |
|
বারি আলু-৭২ বা ৭৩ |
২০-২৪টন |
আলু বীজ শোধন পদ্ধতি
সঠিক পদ্ধতিতে আলু বীজ শোধন করতে না পারলে, আলুতে অনেক রোগ-বালই দেখা দিবে। তাই আমাদের আলুর বীজ শোধন পদ্ধতি জানা প্রয়োজন। নিম্নে কয়েকটি ধাপে আলুর বীজ শোধন পদ্ধতি দেওয়া হলো-
- প্রথমে কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু গুলে বের করতে হবে।
- এবার আলু গুলোকে ৪৮ ঘন্টা প্রি-হিটিং রুমে রাকতে হবে।
- এবাল আলুগুলো বাসাই আনতে হবে।
- এখন আলু গুলো খোলা বাতাসের নিচে রেখে দিতে হবে।
- এখন আলু গুলো ১ লিটার পানিতে ৩০ গ্রাম হারে বরিক এসিড এর দ্রবনে ২০ মিনিট রাখতে হবে।
এখন অনেকের প্রশ্ন হতে পারে, কত টুকো জমিতে কি পরিমানে আলু বীজ প্রয়োজন হয়? এই প্রশ্নের উত্তর হলো - ৩৩ শতক বা ১ বিঘা জমিতে ২০০ থেকে ২১০ কেজি আলু বীজ প্রয়োজন হয়।
আলু বীজ রোপণ পদ্ধতি
সঠিক পদ্ধতিতে আলু বীজ রোপণ করতে না পারলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না। নিম্নের ধাপ গুলোতে আলু বীজ রোপণ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে দেওয়া হলো-
- আলু বীজে অঙ্কুর গজানো প্রথম কুঁড়ি ভেঙে দিতে হবে। এর কারণ হলো সব বীজ গুলো এক সাথে বৃদ্ধি পাবে।
- এখন আলু গুলে ৩০-৪০ গ্রম ওজনে কেটে নিতে হবে।
- আলু বীজ কাটার পর ৩-৪ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে।
- প্রতিটি আলু কাটার পর চাকু পরিষ্কার করা উত্তম, এতে জীবাণু একটি বীজ হতে অপর বীজে ছড়াবে না।
- বাংলাদেশে ১৫ কার্তিক থেকে ১৫ পর্যন্ত আলু বীজ রোপণ করার উত্তম সময়।
আলু চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতি
বিভিন্ন জমির উর্বরতা ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তাই সকল জমিতে আলু চাষে সার এর পরিমান সমান লাগে না। আপনাকে আলু গাছ দেখে বুঝতে হবে, কি পরিমানে সার দিতে হবে। বোঝার সুবিধার্থে নিম্নে একটি তালিকা দেওয়া হলো-
|
সার |
পরিমান (৩৩ শতক বা ১ বিঘা) |
|
ইউরিয়া |
৪৪-৪৮ কেজি |
|
টিএসপি |
২৭-৩০ কেজি |
|
এমওপি |
৩৩-৪০ কেজি |
|
জিপসাম |
১৩-১৬ কেজি |
|
জিংক সালফেট |
১ কেজি |
|
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট |
১৮-২০ কেজি |
|
বোরন |
১ কেজি |
|
গোবর সার |
১২০০ - ১৩০০ কেজি |
সার গুলো সঠিক সময়ে জমিতে প্রয়োগ করলে, আলুর ভালো ফলন পাওয়া যাবে। আমরা প্রথমে গোবর ও জিংক সালফেট সার জমিতে শেষ যে চাষটি দিবো, তখন জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। এবার অর্ধেক ইউরিয়া এবং সম্পূর্ণ টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও বোরন সার আলু রোপণের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।
আলুর আন্তঃপরিচর্যা
আলু লাগানোর পর পরিচর্যা না করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না। ভালো ফলন পেতে হলে ভালো পরিচর্যা করতে হবে। নিম্নে আলুর গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিচর্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
- আলু রোপণের পর জমিতে ভেজা ভাব না থাকলে সে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোথাও পানি না জমে থাকে।
- প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে সেচ দিতে হবে।
- আলু জমি থেকে উঠানোর ১০ দিন আগে সেচ প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে।
- আলুর দাদ রোগ নিয়ন্ত্রন করার জন্য আলুর জমিতে ৩০ থেকে ৫০ দিনে জমিতে রস কমতে দেওয়া যাবে না এবং ৬০ থেকে ৬৫ দিনে জমিতে রস বেশি হতে দেওয়া যাবে না।
- আলুর জমিতে সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।
FAQ
১ বিঘা জমিতে কত কেজি আলু বীজ প্রয়োজন হয়?
৩৩ শতক বা ১ বিঘা জমিতে ২০০ থেকে ২১০ কেজি আলু বীজ প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশে কয়টি আলুর জাত রয়েছে?
বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত ৮৩ টি আলুর জাত পাওয়া যাই। এক একটি আলুর জাতের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট আছে।
